বি পি নিউজ ২৪

কাঁচপুর থেকে সরাসরি ভোলায় ফেরি, লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা


প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কাঁচপুর থেকে সরাসরি ভোলায় ফেরি, লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা

দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। নতুন এ নৌপথে কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশায় পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

যদিও গত ২৭ আগস্ট থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে কাঁচপুর-ইলিশা রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল, এবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেবাটি নতুন মাত্রা পেল। এ রুটে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে এখনও সময় প্রয়োজন। সে কারণে কাঁচপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিস ভোলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ফেরি সার্ভিসের সংখ্যা ও সেবার মান বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ও যৌক্তিক ভাড়া নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এর আগ পর্যন্ত নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভোলার মানুষের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে এ রুটে দুটি ফেরি চললেও যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

নৌপরিবহন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এ খাতে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। বছরে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে যাত্রীসংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নৌপথকে আরও যাত্রীবান্ধব ও পরিবেশসম্মত করা গেলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন মন্ত্রী। সড়ক যোগাযোগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত ফেরিগুলো বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে। প্রতিটি ফেরিতে প্রায় ২৮০ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থাও থাকবে।

সরাসরি এ ফেরি সংযোগ চালুর ফলে ভোলার ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবহনকারী এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে ভোলায় পণ্য পরিবহনে নতুন এই নৌরুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে রাজধানী ও আশপাশের জেলার যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে বিআইডব্লিউটিসি।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাঁচপুর থেকে সরাসরি ভোলায় ফেরি, লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। নতুন এ নৌপথে কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশায় পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ফেরিঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

যদিও গত ২৭ আগস্ট থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে কাঁচপুর-ইলিশা রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল, এবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেবাটি নতুন মাত্রা পেল। এ রুটে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে এখনও সময় প্রয়োজন। সে কারণে কাঁচপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিস ভোলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ফেরি সার্ভিসের সংখ্যা ও সেবার মান বাড়ানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ও যৌক্তিক ভাড়া নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এর আগ পর্যন্ত নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভোলার মানুষের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে এ রুটে দুটি ফেরি চললেও যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

নৌপরিবহন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এ খাতে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। বছরে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে যাত্রীসংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নৌপথকে আরও যাত্রীবান্ধব ও পরিবেশসম্মত করা গেলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন মন্ত্রী। সড়ক যোগাযোগের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত ফেরিগুলো বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে। প্রতিটি ফেরিতে প্রায় ২৮০ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থাও থাকবে।

সরাসরি এ ফেরি সংযোগ চালুর ফলে ভোলার ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবহনকারী এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে ভোলায় পণ্য পরিবহনে নতুন এই নৌরুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে রাজধানী ও আশপাশের জেলার যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে বিআইডব্লিউটিসি।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ