বি পি নিউজ ২৪

গরমের মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, একসঙ্গে বন্ধ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র


প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গরমের মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, একসঙ্গে বন্ধ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বিদ্যুৎ ঘাটতি ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট

তীব্র গরমের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরএনপিএলের একটি ইউনিটও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এতে একসঙ্গে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পুরোনো সংকটের সঙ্গে নতুন এই ঘাটতি যোগ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই সময় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণত চাহিদা বেশি থাকলেও দেশে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার উৎপাদন সেই মাত্রার চেয়েও অনেক নিচে নেমে যায়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আকস্মিকভাবে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইউনিটটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। একই সময়ে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনেও বড় পতন দেখা যায়। ওই সময় কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সামগ্রিক উৎপাদনও কমেছে। একদিন আগে এসব কেন্দ্র থেকে যেখানে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা কমে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

শুধু কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদনের বাইরে চলে গেছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র একদিন আগে ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও পরে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

এর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

আদানির কেন্দ্রটির উৎপাদন পরিস্থিতিও সাম্প্রতিক সময়ে ওঠানামার মধ্যে ছিল। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি আবার ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল।

তবে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের কারিগরি সমস্যায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ পড়েছে। এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়ছে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গরমের মধ্যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, একসঙ্গে বন্ধ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বিদ্যুৎ ঘাটতি ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট

তীব্র গরমের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরএনপিএলের একটি ইউনিটও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এতে একসঙ্গে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পুরোনো সংকটের সঙ্গে নতুন এই ঘাটতি যোগ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই সময় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণত চাহিদা বেশি থাকলেও দেশে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার উৎপাদন সেই মাত্রার চেয়েও অনেক নিচে নেমে যায়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, আকস্মিকভাবে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইউনিটটি দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। একই সময়ে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনেও বড় পতন দেখা যায়। ওই সময় কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সামগ্রিক উৎপাদনও কমেছে। একদিন আগে এসব কেন্দ্র থেকে যেখানে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা কমে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

শুধু কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদনের বাইরে চলে গেছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র একদিন আগে ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও পরে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

এর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

আদানির কেন্দ্রটির উৎপাদন পরিস্থিতিও সাম্প্রতিক সময়ে ওঠানামার মধ্যে ছিল। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি আবার ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল।

তবে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের কারিগরি সমস্যায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ পড়েছে। এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়ছে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বাড়ছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ