পুকুরে মিঠাপানির কুমিরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি পুকুরে প্রাণীটিকে দেখা যাওয়ায় সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না অনেক বাসিন্দা। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে তিনগাঁও এলাকার একটি পুকুরে কুমিরটির বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাতে পুকুর থেকে উঠে পাশের একটি বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণীটিকে দেখতে পান। পরে সেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার জানান, কয়েক দিন ধরেই তিনি ও অন্যরা পুকুরে কুমিরটির চলাচল দেখতে পাচ্ছেন। এক রাতে পুকুর থেকে উঠে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সেটিকে চোখে পড়ে বলেও জানান তিনি।
নাজমা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় কুমির ঢোকার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
১২ বছর বয়সী ফাহিম জানায়, কুমির দেখার পর তার বাবা-মা তাকে একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে বলেও জানায় সে।
তবে প্রাণীটি আসলেই কুমির কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তিও ছিল। সালাম মিয়া নামের এক বাসিন্দা বলেন, কেউ এটিকে গুইসাপ আবার কেউ কুমির বলছেন। তিনি নিজে প্রাণীটি দেখেননি এবং এটি কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
কুমিরটির উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। পুকুরে না নামা, প্রয়োজন ছাড়া পুকুরের কাছে না যাওয়া এবং প্রাণীটির কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিরটিকে নিজেরা ধরতে বা তাড়াতে না বলা হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকেও পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন বলেন, তারা কুমিরটির ভিডিও দেখেছেন। এটি মহাবিপন্ন প্রজাতির মিঠাপানির কুমির বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সাধারণত প্রাণীটি শান্ত স্বভাবের হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কুমিরটি উদ্ধারে বন বিভাগ কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতি এক ঘণ্টা পরপর সেখানে লোক পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, স্থানীয়দের সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে ওইদিন সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে কুমিরটি আগের পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক প্রাণীটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কুমিরটিকে কোনো ধরনের আঘাত বা হত্যার চেষ্টা না করে নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বন বিভাগ অথবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুকুরে মিঠাপানির কুমিরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় একটি পুকুরে প্রাণীটিকে দেখা যাওয়ায় সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না অনেক বাসিন্দা। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে তিনগাঁও এলাকার একটি পুকুরে কুমিরটির বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাতে পুকুর থেকে উঠে পাশের একটি বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণীটিকে দেখতে পান। পরে সেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার জানান, কয়েক দিন ধরেই তিনি ও অন্যরা পুকুরে কুমিরটির চলাচল দেখতে পাচ্ছেন। এক রাতে পুকুর থেকে উঠে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সেটিকে চোখে পড়ে বলেও জানান তিনি।
নাজমা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় কুমির ঢোকার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
১২ বছর বয়সী ফাহিম জানায়, কুমির দেখার পর তার বাবা-মা তাকে একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে বলেও জানায় সে।
তবে প্রাণীটি আসলেই কুমির কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরুতে কিছুটা বিভ্রান্তিও ছিল। সালাম মিয়া নামের এক বাসিন্দা বলেন, কেউ এটিকে গুইসাপ আবার কেউ কুমির বলছেন। তিনি নিজে প্রাণীটি দেখেননি এবং এটি কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
কুমিরটির উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। পুকুরে না নামা, প্রয়োজন ছাড়া পুকুরের কাছে না যাওয়া এবং প্রাণীটির কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিরটিকে নিজেরা ধরতে বা তাড়াতে না বলা হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকেও পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন বলেন, তারা কুমিরটির ভিডিও দেখেছেন। এটি মহাবিপন্ন প্রজাতির মিঠাপানির কুমির বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সাধারণত প্রাণীটি শান্ত স্বভাবের হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কুমিরটি উদ্ধারে বন বিভাগ কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতি এক ঘণ্টা পরপর সেখানে লোক পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, স্থানীয়দের সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে ওইদিন সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে কুমিরটি আগের পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক প্রাণীটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কুমিরটিকে কোনো ধরনের আঘাত বা হত্যার চেষ্টা না করে নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বন বিভাগ অথবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন