লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের গেটে নতুন তালা, দুই পক্ষের হাতে চাবি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মন্দিরে ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারকে জানানো হলে তিনি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করতে বলা হয়।
পরে সাখাওয়াত হোসেন খান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভক্তদের পূজা-অর্চনায় বাধা দেওয়া যাবে না। সবাই যেন নির্বিঘ্নে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
আলোচনায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ধর্মীয় উৎসবের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধানে আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে বলে জানান সাখাওয়াত হোসেন খান। পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমার পরিবর্তে বিকল্প প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজা চালু রাখার জন্য মন্দির কমিটিকে অনুরোধ করেন তিনি।
মন্দিরে প্রবেশে কোনো পক্ষ যাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের চাবি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান বজায় রেখে নিজ নিজ অধিকার চর্চার আহ্বান জানান প্রশাসক। পরে বিষয়টি জানিয়ে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শঙ্কর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জেলা সভাপতি টনি মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, যুবদল নেতা সাগর প্রধান এবং লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা চায় মন্দির কমিটি
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে মন্দির কমিটি জানায়, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। এসব আয়োজন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তায় ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা সম্ভব হবে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে জমি নিয়ে বিরোধ
এর আগে মঙ্গলবার জমি-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন মন্দির কমিটির নেতারা। খবর পেয়ে ওই দিন বিকেলে মন্দির পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তখন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ইউএনওকে জানান, মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে তাঁরা প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউএনও তাঁদের ২৬ অক্টোবর বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানান।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কারখানাটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০০০ সালে সরকার ৫১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে কারখানাটির মালিকানা হস্তান্তর করে। পরে ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে কারখানাটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিট কনসার্ন গ্রুপ শুরু থেকেই মন্দির, পুকুর ও মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে নিবন্ধিত মন্দিরটির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা। আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হবে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের গেটে নতুন তালা, দুই পক্ষের হাতে চাবি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মন্দিরে ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারকে জানানো হলে তিনি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করতে বলা হয়।
পরে সাখাওয়াত হোসেন খান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভক্তদের পূজা-অর্চনায় বাধা দেওয়া যাবে না। সবাই যেন নির্বিঘ্নে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
আলোচনায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ধর্মীয় উৎসবের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধানে আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে বলে জানান সাখাওয়াত হোসেন খান। পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমার পরিবর্তে বিকল্প প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজা চালু রাখার জন্য মন্দির কমিটিকে অনুরোধ করেন তিনি।
মন্দিরে প্রবেশে কোনো পক্ষ যাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের চাবি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান বজায় রেখে নিজ নিজ অধিকার চর্চার আহ্বান জানান প্রশাসক। পরে বিষয়টি জানিয়ে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শঙ্কর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জেলা সভাপতি টনি মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, যুবদল নেতা সাগর প্রধান এবং লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা চায় মন্দির কমিটি
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে মন্দির কমিটি জানায়, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। এসব আয়োজন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তায় ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা সম্ভব হবে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে জমি নিয়ে বিরোধ
এর আগে মঙ্গলবার জমি-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন মন্দির কমিটির নেতারা। খবর পেয়ে ওই দিন বিকেলে মন্দির পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তখন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ইউএনওকে জানান, মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে তাঁরা প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউএনও তাঁদের ২৬ অক্টোবর বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানান।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কারখানাটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০০০ সালে সরকার ৫১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে কারখানাটির মালিকানা হস্তান্তর করে। পরে ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে কারখানাটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিট কনসার্ন গ্রুপ শুরু থেকেই মন্দির, পুকুর ও মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে নিবন্ধিত মন্দিরটির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা। আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হবে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন