বি পি নিউজ ২৪

ডিসি-এসপির নজরদারিতে নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ


প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডিসি-এসপির নজরদারিতে নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে নারায়ণগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে জেলা পুলিশ, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আনসার, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

ঈদ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদকে ঘিরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, পশুর হাট এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময়েও জেলার কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান চলমান থাকবে এবং কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না।

তিনি জানান, বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, সচেতনতামূলক সভা এবং উঠান বৈঠক পরিচালনা করা হচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, অধিকাংশ অপরাধের মূল উৎস মাদক। তাই মাদক নির্মূলে সফলতা অর্জন করা গেলে অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার পথ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পরিবহন, বাজার ও নির্মাণখাতে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, জেলার চিহ্নিত মাদক স্পট ও চাঁদাবাজ চক্রের তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হটলাইন সেবা, গোপন তথ্যদাতাদের পুরস্কৃতকরণ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপ একদিকে যেমন শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী চলমান অভিযান জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


ডিসি-এসপির নজরদারিতে নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে নারায়ণগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে জেলা পুলিশ, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আনসার, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

ঈদ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদকে ঘিরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, পশুর হাট এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময়েও জেলার কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান চলমান থাকবে এবং কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না।

তিনি জানান, বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, সচেতনতামূলক সভা এবং উঠান বৈঠক পরিচালনা করা হচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, অধিকাংশ অপরাধের মূল উৎস মাদক। তাই মাদক নির্মূলে সফলতা অর্জন করা গেলে অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার পথ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পরিবহন, বাজার ও নির্মাণখাতে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, জেলার চিহ্নিত মাদক স্পট ও চাঁদাবাজ চক্রের তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হটলাইন সেবা, গোপন তথ্যদাতাদের পুরস্কৃতকরণ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপ একদিকে যেমন শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী চলমান অভিযান জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ