নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও আইন অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আজ ২০ আগস্ট তাঁর জন্মদিন পালন করছেন। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা, বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আইনি লড়াই এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পথচলা নানা কারণে আলোচিত হয়েছে।
১৯৬৯ সালের ২০ আগস্ট জন্ম নেওয়া সাখাওয়াত হোসেন খানের পারিবারিক সূত্র মুন্সিগঞ্জে। ব্যবসায়ী ফজল খান ও হোসনে আরা খানমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সন্তান শাহরিয়ার খান বর্তমানে পড়াশোনা করছেন।
শিক্ষাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় নারায়ণগঞ্জে কাটে সাখাওয়াত হোসেন খানের। নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে আইন পেশায় প্রবেশ করেন। ১৯৯৫ সালের ১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তাঁর তালিকাভুক্তি হয়।
তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সূচনাও ঘটে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। আশির দশকে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সময় পোস্টার লাগানোর মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে তাঁর প্রাথমিক পদচারণা শুরু হয়। তোলারাম কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ধীরে ধীরে বিএনপির বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা বিস্তৃত হয়।
পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বেও যুক্ত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও একাধিকবার পালন করেছেন। আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা পর্যায়েও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তবে সাখাওয়াত হোসেন খানের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতি সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে তিনি আইনি উদ্যোগ নেন। অভিযুক্ত র্যাব সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার বিচার দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
পরবর্তীতে নিহতদের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলার কার্যক্রমে যুক্ত হন সাখাওয়াত হোসেন খান। এই আইনি ভূমিকার কারণে তিনি সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সংবাদে উঠে আসে।
এর কয়েক বছর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেন তিনি। ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে আইভী জয়ী হলে সাখাওয়াত পরাজিত হন। তবে ওই নির্বাচন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
এরপর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা আরও বাড়ে। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে তিনি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখিও হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা হওয়ার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব মামলার কয়েকটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
আইন পেশা ও রাজনীতির পাশাপাশি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতের লড়াই থেকে শুরু করে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতি এবং বর্তমানে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব—সাখাওয়াত হোসেন খানের কর্মজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তাঁকে আলোচিত একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জন্মদিনে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, আইনজীবী সমাজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও আইন অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আজ ২০ আগস্ট তাঁর জন্মদিন পালন করছেন। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা, বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আইনি লড়াই এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পথচলা নানা কারণে আলোচিত হয়েছে।
১৯৬৯ সালের ২০ আগস্ট জন্ম নেওয়া সাখাওয়াত হোসেন খানের পারিবারিক সূত্র মুন্সিগঞ্জে। ব্যবসায়ী ফজল খান ও হোসনে আরা খানমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সন্তান শাহরিয়ার খান বর্তমানে পড়াশোনা করছেন।
শিক্ষাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় নারায়ণগঞ্জে কাটে সাখাওয়াত হোসেন খানের। নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে আইন পেশায় প্রবেশ করেন। ১৯৯৫ সালের ১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তাঁর তালিকাভুক্তি হয়।
তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সূচনাও ঘটে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। আশির দশকে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সময় পোস্টার লাগানোর মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে তাঁর প্রাথমিক পদচারণা শুরু হয়। তোলারাম কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ধীরে ধীরে বিএনপির বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা বিস্তৃত হয়।
পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বেও যুক্ত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও একাধিকবার পালন করেছেন। আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা পর্যায়েও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তবে সাখাওয়াত হোসেন খানের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতি সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে তিনি আইনি উদ্যোগ নেন। অভিযুক্ত র্যাব সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার বিচার দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
পরবর্তীতে নিহতদের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলার কার্যক্রমে যুক্ত হন সাখাওয়াত হোসেন খান। এই আইনি ভূমিকার কারণে তিনি সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সংবাদে উঠে আসে।
এর কয়েক বছর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেন তিনি। ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে আইভী জয়ী হলে সাখাওয়াত পরাজিত হন। তবে ওই নির্বাচন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
এরপর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা আরও বাড়ে। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে তিনি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখিও হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা হওয়ার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব মামলার কয়েকটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
আইন পেশা ও রাজনীতির পাশাপাশি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতের লড়াই থেকে শুরু করে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতি এবং বর্তমানে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব—সাখাওয়াত হোসেন খানের কর্মজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তাঁকে আলোচিত একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জন্মদিনে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, আইনজীবী সমাজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন