বি পি নিউজ ২৪

শুভকে হত্যার আগে হোসিয়ারি সমিতির অফিসে পরিকল্পনা হয়: ডিবি


প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শুভকে হত্যার আগে হোসিয়ারি সমিতির অফিসে পরিকল্পনা হয়: ডিবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩০) হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, মামলার সন্দেহভাজন কয়েকজন আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিশনপাড়ার হোসিয়ারি সমিতির কমিউনিটি সেন্টারের অফিসে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তদন্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ওই কমিউনিটি সেন্টারকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছে ডিবি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও সেখানকার প্রাঙ্গণ থেকে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি রামকৃষ্ণ মিশনের সামনের সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে চাষাঢ়ার হকার্স মার্কেটের পেছনের একটি গলিতে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস। এ ঘটনায় তাঁর বাবা হরি চন্দ্র দাস নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা কয়েকজনের ওই কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার আশ্রয়ে আসামিরা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন—এমন অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, শুভ নিজেও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ডিবি।

এদিকে, মামলার আরেক আসামি সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধীমনকে (২৩) বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর শিলমান্দী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকার নাদির সরকারের ছেলে।

এর আগে এই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামি সুমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ধীমনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধীমন শুভ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তাঁর দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি ডিবির।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শুভকে হত্যার আগে হোসিয়ারি সমিতির অফিসে পরিকল্পনা হয়: ডিবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩০) হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, মামলার সন্দেহভাজন কয়েকজন আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিশনপাড়ার হোসিয়ারি সমিতির কমিউনিটি সেন্টারের অফিসে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তদন্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ওই কমিউনিটি সেন্টারকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছে ডিবি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও সেখানকার প্রাঙ্গণ থেকে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি রামকৃষ্ণ মিশনের সামনের সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে চাষাঢ়ার হকার্স মার্কেটের পেছনের একটি গলিতে গুলিতে নিহত হন শুভ চন্দ্র দাস। এ ঘটনায় তাঁর বাবা হরি চন্দ্র দাস নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা কয়েকজনের ওই কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার আশ্রয়ে আসামিরা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন—এমন অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, শুভ নিজেও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ডিবি।

এদিকে, মামলার আরেক আসামি সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধীমনকে (২৩) বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর শিলমান্দী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকার নাদির সরকারের ছেলে।

এর আগে এই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামি সুমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ধীমনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধীমন শুভ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তাঁর দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি ডিবির।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ