ভাড়া না কমালে মঙ্গলবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধের ঘোষণা
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন অর্ধেক ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অর্ধদিবস অবরোধ পালনের কথা জানিয়েছে সাত ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটটি।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ছাত্র ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো শর্ত ছাড়াই অর্ধেক ভাড়া চালুর দাবি জানিয়ে প্রশাসন ও পরিবহন মালিকদের ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তাদের দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল সংগঠনটি। ছাত্র ঐক্যের দাবি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ১৯ কিলোমিটার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে টোলসহ সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সে হিসাবে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নেওয়ার কথা।
তবে ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাসে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি, ৫৯ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছে ছাত্র ঐক্য। তাদের বক্তব্য, বিআরটিএর নির্দেশনা এবং জেলা পরিবহন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালু থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
সমাবেশে ছাত্র ঐক্যের নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের বক্তব্য, পরিবহন ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেই; তবে নিয়মনীতি না মেনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তারা।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষ তাদের দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। আন্দোলন দমনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
ঘোষিত কর্মসূচির আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও জনসংযোগ চালানোর কথা রয়েছে ছাত্র ঐক্যের। ওই কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করা হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়।
রোববারের বিক্ষোভ ও সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্র সেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ভাড়া না কমালে মঙ্গলবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধের ঘোষণা
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন অর্ধেক ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অর্ধদিবস অবরোধ পালনের কথা জানিয়েছে সাত ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটটি।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ছাত্র ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ভাড়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো শর্ত ছাড়াই অর্ধেক ভাড়া চালুর দাবি জানিয়ে প্রশাসন ও পরিবহন মালিকদের ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও তাদের দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল সংগঠনটি। ছাত্র ঐক্যের দাবি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ১৯ কিলোমিটার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে টোলসহ সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সে হিসাবে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নেওয়ার কথা।
তবে ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাসে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি, ৫৯ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছে ছাত্র ঐক্য। তাদের বক্তব্য, বিআরটিএর নির্দেশনা এবং জেলা পরিবহন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালু থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
সমাবেশে ছাত্র ঐক্যের নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের বক্তব্য, পরিবহন ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেই; তবে নিয়মনীতি না মেনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তারা।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও বাস মালিকপক্ষ তাদের দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। আন্দোলন দমনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
ঘোষিত কর্মসূচির আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও জনসংযোগ চালানোর কথা রয়েছে ছাত্র ঐক্যের। ওই কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করা হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়।
রোববারের বিক্ষোভ ও সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্র সেনার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন