বি পি নিউজ ২৪

ছিনতাইকারীদের ‘সেফ জোন’ বায়তুল আমান, নিয়মিত অভিযান চললেও এখানে নেই অভিযান



ছিনতাইকারীদের ‘সেফ জোন’ বায়তুল আমান, নিয়মিত অভিযান চললেও এখানে নেই অভিযান

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী বায়তুল আমান ভবনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনটি বর্তমানে ছিনতাইকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বায়তুল আমান ভবনটি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি পুরোনো স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভবনটিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। পরে বুলডোজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই জায়গাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি পরিত্যক্ত থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চাষাঢ়া মোড় এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৯টা থেকে ১০টার পর চাষাঢ়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে। পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে তারা দ্রুত বায়তুল আমান ভবনের পরিত্যক্ত স্থানে আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে তাদের অনুসরণ করতেও সাহস পান না।

এছাড়াও পরিত্যক্ত ভবনটিকে ঘিরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও দেহব্যবসার মতো কার্যক্রমের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কখনো কখনো পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিত্যক্ত বায়তুল আমান এলাকায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জোরালো হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বায়তুল আমান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেখানে অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এখন প্রশ্ন উঠেছে অপরাধীদের কথিত এই নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে? নাকি পরিত্যক্ত এই স্থানটি এভাবেই অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে থাকবে? নাকি প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছিনতাইকারীদের ‘সেফ জোন’ বায়তুল আমান, নিয়মিত অভিযান চললেও এখানে নেই অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী বায়তুল আমান ভবনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনটি বর্তমানে ছিনতাইকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে সেখানে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে।


জানা যায়, বায়তুল আমান ভবনটি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি পুরোনো স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভবনটিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। পরে বুলডোজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই জায়গাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি পরিত্যক্ত থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চাষাঢ়া মোড় এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।


কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৯টা থেকে ১০টার পর চাষাঢ়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে। পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে তারা দ্রুত বায়তুল আমান ভবনের পরিত্যক্ত স্থানে আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে তাদের অনুসরণ করতেও সাহস পান না।


এছাড়াও পরিত্যক্ত ভবনটিকে ঘিরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও দেহব্যবসার মতো কার্যক্রমের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। 


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কখনো কখনো পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। 


এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিত্যক্ত বায়তুল আমান এলাকায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জোরালো হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বায়তুল আমান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেখানে অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।


এখন প্রশ্ন উঠেছে অপরাধীদের কথিত এই নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে? নাকি পরিত্যক্ত এই স্থানটি এভাবেই অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে থাকবে? নাকি প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ